প্রাকৃতিক এবং অতিপ্রাকৃতিক - Natural and Supernatural

“If you want to find the secrets of the universe, think in terms of energy, frequency and vibration. ~ Nikola Tesla


আমরা নিজেরা এবং আমাদের আশেপাশে এই প্রকৃতির জড় জীব যাই দেখি বা অনুভব করি সবই এনার্জি বা শক্তির ই যে বিভিন্ন রূপ সেটা আমাদের কাছে অজানা নয়। এবার যেখানে এনার্জি আছে সেখানে তার ভালো ও খারাপ তো থাকবেই। অর্থাৎ পজিটিভ ও নেগেটিভ এনার্জি। ভূত এবং সেই নেগেটিভ এনার্জি ও তাদের বৈশিষ্ট্য এসব নিয়ে না হয় পরে আস্তে আস্তে লিখব আজ আপাতত এখানে আমি লিখছি আমরা আমাদের নিজেদের এনার্জি কে কিভাবে সুরক্ষা দিতে পারি নিজেদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বা Psycho Physical Health কে ঠিকমতো পরিচালনা করার জন্যে।

খুব সামান্য উদাহরণ দিয়ে আমি আমার মুল বিষয়ে আসি। একটি ইলেকট্রিক বাল্ব কে জালানোর জন্যে ইলেক্ট্রিসিটির পজিটিভ ও নেগেটিভ দুটি প্রান্তকেই সংযুক্ত করতে হয় বাল্বের নিচের দুই প্রান্তে, ঠিক তেমনই আমাদের শরীরটাও একটি ডিভাইস।এটিও এনার্জি তে চলছে যার মধ্যে ইলেক্ট্রিসিটি কিছুটা হলেও বর্তমান সেটা সবাই জানেন, আপদকালীন পরিস্থিতিতে বুকে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয় হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনার জন্যে। তবে আমাদের এই শরীর টা বড্ড উন্নতমানের ও জটিল ডিভাইস। যেহেতু আমাদের শরীরেও এনার্জি বর্তমান, তাই আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই নেগেটিভ ও পজিটিভ এনার্জিও বর্তমান। আমাদের এই এনার্জির বহিরপ্রকাশ ঘটে আমাদের ইমোসন ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে। আমরা যখন খুব খুশি থাকি তখন আমাদের মধ্যে কাজ করার প্রবনতাও অনেকটা বেশি থাকে এবং আমাদের আশেপাশের মানুষজন ও তখন আমাদের সান্যিন্ধ পছন্দ করে, এগুলো পজিটিভ এনার্জি বহিরপ্রকাশ এর লক্ষন। আবার আমরা আমাদের যখন খুব মন খারাপ থাকে তখন আমদের কোনো কাজেই মন লাগে না, অনেকের সাথে কথা বলতে বা মিসতেও ইচ্ছা করে না, এগুলো নেগেটিভ এনার্জির বহিরপ্রকাশ।
আমরা মানুষকে সাধারনত ২টো ভাগে ভাগ করে থাকি, ১) এনার্জি গিভার, ২) এনার্জি সাকার বা এনার্জি ভ্যাম্পায়ার। আমাদের সকলের উচিত এই এনার্জি সাকারদের থেকে নিজেদের এনার্জি ফিল্ডকে বাঁচিয়ে রাখা নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে। লক্ষ্য করে দেখবেন আপনি যদি খুব খুশি থাকেন আপনার আসে পাশের মানুষ আপনার সাথে সেই খুশি উপভোগ করেন, আপনি হঠাৎ হাসতে শুরু করলেন কি এক এক করে সবার ঠোট এ হাসি চলে এলো। আবার আপনি একটু খুশি মনে কোথাও গেলেন র দেখলেন সেখানে সবাই মন খারাপ করে/ঝিমিয়ে আছেন, দেখবেন আপনার ও সেই ভাব টা আপনার মনে চলে এসেছে। এর কারণটা বলি, একটি তার এর মাধ্যমে আমরা ইলেক্ট্রিসিটি প্রবাহ চালু করলে ওই তারটির চারিদিকে একটি নির্দিষ্ট রেডিয়াস এ একটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড কাজ করে সেটা আমরা সবাই জানি। ঠিক তেমনিই আমাদের শরীরের একটি নির্দিষ্ট রেডিয়াস এ আমাদের প্রত্যেকের এনার্জি ফিল্ড বর্তমান। একটি সুস্থ মানুষের নিজস্ব এনার্জি ফিল্ড তার ৪-৫ ফুট রেডিয়াস এ বর্তমান। এটি আপ টু ২০ ফুট বা তার বেশি হতে পারে যারা সেনসিটিভ বা যোগসাধনা করে থাকেন আধ্যাত্মিকতার উদ্দ্যেশ্যে। এবার আসি এই এনার্জি সাকারদের নিয়ে, এরাও আপনার আমার মতো এরাও আমাদের সাথে আমাদের পাশে সর্বদা বর্তমান। কিকরে বুঝবেন? ধরুন আপনি ও আপনার কিছু বন্ধু বাইরে কোথাও খোশ মেজাজে আড্ডা দিচ্ছেন, এমন সময় কেউ একজন আপনার না আপনাদের পরিচয়ের সেখানে এসে উপস্তিত হলো আর আপনি বা আপনারা মনে মনে ভাবতে শুরু করলেন যে ধুর ! এ আবার এখানে কেনো এলো, বেকার আড্ডা টাই মাটি করে দিলো, অর্থাৎ আপনাদের সুখের আড্ডার বারোটা বেজে পাঁচ। দেখা গেলো সম্পূর্ণ উত্তেজনাটাই মাটি হয়ে গেলো। এই ধরনের মানুষরা হচ্ছে এনার্জি সাকার, আপনার সম্পূর্ণ মন মেজাজ খারাপ করে দিতে পারে তাদের আগমন, বা কিছু কথা দ্বারা। লক্ষ্য করবেন এই ব্যাক্তিই যখন আপনার/আপনাদের থেকে বেশ খানিকটা দূরে আছে তখন কিন্তু কিছুই মনে হবে না, যখন ই কাছে আসতে শুরু করবে তখন ই আপনার অসুবিধা বা মনে মনে ভাবতে শুরু করবেন ও কেনো আবার এখানে আসছে। কারন ওই যে বললাম আমাদের ফিল্ড টা ৪-৫ ফুট রেডিয়াস এ থাকে এবং সে যখন ই কাছে আসছে আপনার আর তার ফিল্ড নিজেদের সংস্পর্শে আসছে এবং দুজনের এনার্জি ভাইব্রেশন ও আলাদা ফলে সংঘর্ষ তৈরি হচ্ছে। এদের থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন। যখন ই লক্ষ করছেন যে কাউর উপস্থিতি আপনার পছন্দ হচ্ছে না সেখান থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। কারন বেশিক্ষণ তাদের সাথে কাটানো সময় আপনার মনে প্রভাব ফেলবে এবং আপনার এনার্জি কে ডাউন করে দেবে। কোনো অজুহাত দিয়ে সেই আড্ডা ত্যাগ করুন বা সেখান থেকে সরে যান, দূরত্ব বজায় রাখুন কারন এর এফেক্ট আপনার নিজের কাজে পড়বে। এবার এই উদাহরণ ধরেই বলি, আপনারা আড্ডা মারতে এসেছেন ঠিক ই কিন্তু আড্ডা টা ঠিক জমছে না, হয় আপনাদের আড্ডার এমন কেউ মুখ্যমনি আছে যে একাই এসে যাওয়া মানেই ব্যাস, আড্ডা জমে ক্ষীর। বা এমন কেউ এসে গেলো আর আপনারা মেতে উথলেন তার সাথে সব ভুলে। এরা হচ্ছে এনার্জি গিভার। এদের পজিটিভ এনার্জি লেভেল টা অনেক হাই হয়। ধরুন আপনি হতাশ হয়ে আছেন আর কেউ একজন আসার পর আপনার মন টা একটু ভালো হতে শুরু করলো, বা অনেক সময় আপনারা মন খারাবে বা কোনো ডাউন ফিল করলে আপনারা তাদের কাছে যান কারন তারা আপনাকে মোটিভেট করেন। যারা এরকম হয়ে থাকে লক্ষ্য করবেন তারা সৎ ধরনের মানুষ হয় ও ত্যাগী হয়। আমরা এদের সানিদ্ধ্য পছন্দ করে থাকি। এদের সংস্পর্শে থাকলে দেখবেন অনেক কঠিন কাজ ও পরিস্থিতি তেও আপনি মনের জোর পাচ্ছেন।
এসব নিয়ে আরও অনেক কিছু আছে যা একেবারে লিখেফেলা আমার পক্ষে সম্ভব না,আস্তে আস্তে হয়তো লিখবো যদি এই ধরনের লেখা এই গ্রুপ এ গ্রহন হয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে বাইরের ভূত প্রেত এর সংস্পর্শ সবাই লাভ না করলেও আমাদের নিজেদের ভূত প্রেত দের সাথে সব সময় আমাদের লড়াই বর্তমান থাকে, সেগুলো হলো আমাদের স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা যা আমাদের একটু হলেও শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতা হ্রাস করানোর অন্যতম কারন। এই স্ট্রেস এর সাথে সাময়িক মোকাবিলা করার একটি প্রাকৃতিক উপায় হলো “Natural body earthing” ঠিক যে কারনে আমরা আমাদের ইলেকট্রিক লাইনে earthing ব্যাবহার করে থাকি, ঠিক তেমন ই আমাদের শরীরের ও earthing দরকার হয়, এটাকে Natural Healing ও বলা হয়ে থাকে যেখানে আমরা নিজেদের প্রকৃতির কাছে সমর্পণ করে থাকি এবং প্রকৃতিই আমাদের Heal করে। কিভাবে ? কয়েকটি জিনিস করে দেখুন, এগুলো খুব সাধারন এবং আমরা সকলে করে এসেছি, করি কিন্তু সম্পূর্ণটা হয়তো জানি না... .
১) কোনো নদীর ঘাটে বসুন যখন মন খারাপ থাকবে, বসে অবশ্যই জুতো খুলে ভিজে ভিজে ঠাণ্ডা মাটিতে পা রেখে বসুন যাতে সেই অনুভুতি টা ফিল করতে পারেন। দেখবেন আস্তে আস্তে আপনার একটু একটু ভালো লাগতে শুরু করবে।
২) সকাল বিকেল নয়, যেকোনো সময় মন মেজাজ খারাপ থাকলে কোনো সবুজ ঘাস যুক্ত মাঠে চলে যান, খালি পায়ে দারান, দরকার হলে সুয়ে পরুন চোখ বুঝে হাও ও পা ঘাস স্পর্শ করে।
৩) কখনো কোনো গাছ কে নিজের আপন ভেবে জড়িয়ে ধরে দেখুন, দেখবেন ভালো লাগে কিনা।

এগুলো যে মন খারাপের সময়েই করবেন তা নয়, পারলে রোজ করুন যতবার খুশি। এতে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য অনেক ভালো থাকবে। এককথায় প্রকৃতির সংস্পর্শে আসুন তাকে ভালোবেসে। আমরা বর্তমানে সেটাই ভুলে যাচ্ছি প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে। প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকুন দেখবেন অনেক সমস্যা সোজা মনে হবে, প্রকৃতিই অনেক রাস্তা দেখিয়ে দেবে। আজকের জন্যে এই টুকুই, লেখাটা আপনাদের কোনো উপকারে লাগলে খুশি হবো। এগুলো করে নতুন কিছু অভিজ্ঞতা হলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন, তাতে আমিও আরও কিছু শিখতে পারবো। খুব ভালো থাকুন ও অন্যকেও খুব ভালো রাখুন।
 তথ্যে কোনো ভুল ও অসঙ্গতি খুঁজে পেলে কমেন্ট দ্বারা আপনাদের মতামত অবশ্যই জানাবেন। ধন্যবাদ।।

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

লাভ স্পেল - Love Spell | সত্য ঘটনা অবলম্বনে-4