ভূত ও মানুষের সম্পর্ক - Ghosts & Human relationships

ছোটবেলা থেকেই আমরা এই ভূত,প্রেত,পিশাচ ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে সকলেই কম বেশি ভয় পেলেও এই ব্যাপারগুলো সর্বদাই আমাদের খুব আকর্ষণ করে। যারা প্রচণ্ড ভয় পান তারাও ভূত এর গল্প পড়া বা সিনেমা দেখার নাম উঠলেই সবাই এক পায়ে খাড়া। যারা ভূত এ বিশ্বাস করেন না তাদের ক্ষেত্রেও ব্যাপার টা একই। বহু মানুষের বাস্তব জীবনে এক বা একাধিক বিভিন্নরকম এর ভৌতিক অভিজ্ঞতা আছে আবার অনেকের একটাও নেই, আবার কেউ কেউ মনে প্রানে চেয়েও ভৌতিক অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন না বলে নিজেদের কে দুর্ভাগ্যবান ও মনে করেন আর কি! আমার এই ছোট্ট জীবনের কিছু সল্প পরিসর সময় বিভিন্নরকম ভূত প্রেত দের সাথে কাটিয়ে আজ আমি চেষ্টা করব এই মানুষ-ভুত সম্পর্ক টা ঠিক কি, ভূতেদের কেমন দেখতে, তেনারা কাদের ঘাড়ে চেপে ওঠেন আর কেনই বা ওঠেন এবং সবাই কেন ভূতের দর্শন পান না ইত্যাদি খুবই সহজ ও বোধগম্য ভাবে সকলের কাছে একটু তুলে ধরতে।


প্রথমেই আসি যে, এই ভূত ব্যাপার টা আমাদের কাছে এতো আকর্ষণীয় কেনো?
এটির কারন সম্পূর্ণটাই Human Psychology র উপর দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের মস্তিস্ক সর্বদাই নতুন কিছুর সন্ধান করে চলেছে প্রত্যেক মুহূর্তে নতুন কিছু শেখার তাগিদে। এবং আমাদের মস্তিস্ক বা আমরা সেদিকেই বেশি মনোযোগ করি যেটি একটু আনকমন। সাইকোলজির ভাষায় আমাদের মস্তিস্ক সর্বদা আনকমন প্যাটার্ন খুঁজে চলেছে। এবং আমাদের ব্রেন সেই জিনিসপত্র ই বেশি মনে রাখে যেগুলো আমাদের প্রতিদিন এর জীবনে একটু আলাদা ঘটে। যেমন ধরুন আপনি ২দিন আগে কী খেয়েছেন সেটা আপনার মনে নাই থাকতে পারে কিন্তু বহু আগে যদি আপনার চোখের সামনে খুব মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা ঘটে সেটা কিন্তু আপনার সর্বদা মনে থাকে। কারন ব্রেন এরকম প্যাটার্ন আলাদা ভাবে সঞ্চিত করে রাখে। তাহলে এর সাথে ভূত এর কী সম্পর্ক? সম্পর্ক এই যে, আপনি ছোটো থেকেই জন্মের পর থেকে ভূত সম্বন্ধে শুনে আসছেন। প্রথম থেকেই বড়রা এই ‘ভূত’ শব্দটি একটি ভয়ের কারন তা বুঝিয়ে আসছেন। এবং যেহেতু বাস্তবের সাথে ব্রেন তার কোনো মিল পাচ্ছেনা শুধুই অন্যের বলা ভয় দেখানো ছাড়া, ফলে শিশুমনে অজান্তেই তৈরি হচ্ছে এক জিজ্ঞাস্য এবং ক্রমশ বড় হতে হতে বড়দের কাছে শোনা কথা মতো আগ্রহী শিশুমস্তিস্ক নিজের মতো এক রুপ দিচ্ছে ভুতকে। এবার ক্রমশ বড় হতে হতে বিভিন্ন সিনেমা, ও না না ছবি দেখতে দেখতে সম্পূর্ণ এক অন্য রুপ পাচ্ছে সাথে ভূত সম্বন্ধে এবং তৈরি হচ্ছে ভয় ও। আরও নানারকম বিকৃত ছবি ভূত বলে ভেবে নিচ্ছে আমাদের মস্তিস্ক। এবার যেহেতু বাস্তবে খোলা চোখে মস্তিষ্ক ছবির মতো কোনো জিনিস ই খুঁজে পাচ্ছে না আশেপাশে ফলে ভূত সম্বন্ধে সেই ধারনাই হয়ে উথছে সত্য। যারা সত্যিকারের ভূত দেখেছেন তারা কখনও ওই সিনেমার মতো রূপে দেখেছেন কিনা আমার জানা নেই এবং দেখে থাকলে তার ও ব্যাখ্যা আছে এবং তা সম্পূর্ণটাই Parapsychology র আওতায় পড়ে। যেহেতু ভূত মানেই প্রথম থেকেই আমাদের মনে এক ভয় এর সৃষ্টি করিয়ে তা জোর করে চেপে মনের ভিতর বসিয়ে দেওয়া হয় সেই ভয় থেকেই অনেক সময় বহু মানুষ বহু প্রাকৃতিক ঘটনা কে ভৌতিক ভেবে ফেলেন যাতে সেই মানুষটির কোনো দোষ নেই।
এবার বলবেন যে সব ই তো হলো মশাই তবে ভূত কে দেখতে কেমন হয়? এই ভূত বা আমাদের ভাষায় আমরা যাকে Soul বলে থাকি সেটির সেরকম নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি থাকে না। এটি সম্পূর্ণ একটি ফ্রি ফর্ম অফ এনার্জি। একটা খুব সহজ উদাহরণ দিই, আপনি কী বিদ্যুৎ কে দেখতে পান? আপনি যখন তার এর মাধ্যমে একটি লাইট জালান তখন আপনি বুঝতে পারছেন যে তারটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ টি গিয়ে আলোটি জালাচ্ছে। একটি ইলেকট্রিক পোর্ট এ আপনি কোনো তার না লাগিয়ে সুইচ অন করলে বিদ্যুৎ কে দেখতে পান? না তো! অথচ যদি ওই সময় আপনি ওই পোর্ট এ হাত দেন তো এক জোর ঝটকা খাবেন এবং বুঝবেন যে হ্যাঁ কারেন্ট মেরেছে। ঠিক সেরকম ই। কে দেখা যায়না সচরাচর কারন মৃত্যুর পর তার কোনো শরীর থাকেনা। আমাদের শরীর টা একটা উন্নত মানের ডিভাইস ছাড়া কিছুই না। যেহেতু শরীর থাকে না ফলে Soul / ভূত সাধারনত চোখে দেখা যায়না কারন মানুষ এর চোখ সেই এনার্জি ফ্রিকোয়েন্সি টা রিসিভ করতে পারে না যা কিছু প্রানী পারে বলে তারা বুঝতে পারে এবং Soul/ভূত দেখতেও পারেন।Soul দেখা যায় না কিন্তু আমরা ফীল করতে পারি। শুধু ফিল করা না যেহেতু এনার্জি টা আর কোনো শরীরে আবদ্ধ নেই ফলে তার ক্ষতি করার ক্ষমতাও বেশি এবং খুব অনায়াসেই এরা শারীরিক আঘাত হানতে পারে এবং আশেপাশের বিভিন্নি বস্তুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে বিভিন্নভাবে। ঠিক ইলেকট্রিক শক এর মতো।সাধারনত Soul/Spirit মানুষের চোখে ধরা পড়ে না বলেই Paranormal Investigator রা বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করেন এদের অস্তিত্ব বোঝার জন্যে।এদের উপস্থিতি তে ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসেও কিছু সময় অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। তবে আবার অনেকে আছেন যারা এদের দেখতে পান ও তাদের সহিত সংযোগ স্থাপন করতেও পারেন। তাদের কেউ কেউ প্রকৃতি প্রাপ্ত এই গুণসম্পন্ন হন আবার কেউ কেউ সাধনা দ্বারা এই ক্ষমতা লাভ করেন। অনেকের কাছে অনেক ক্ষণিকের জন্যে এই ভূত ভয়াবহ রূপে এসে আবার মিলিয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমাদের মস্তিস্কের সেই বিকৃত প্যাটার্ন গুলো কাজ করে। পৃথিবীর সবকিছুই সবকিছুর সাথে জড়িত। ফলে ভিকটিম এর মনের ভয় এবং সেই মুহূর্তে আসা তার মস্তিস্কের বিভিন্ন ইমেজগুলির সাথে এক সংযোগ তৈরি করে কিছু মুহূর্তের জন্যে এক বাজে রুপ সেই ব্যাক্তির চোখে ভেসে ওঠে এবং বেশিরভাগ সময় সেই ভয় তেই অনেকের হার্ট ফেল করে এবং অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে ইত্যাদি ইত্যাদি। ভূত কোনো রুপ ধারন করলেও তা খুব ই স্বল্প সময়ের জন্যে হয়। কারন কোনো রুপ ধারনের জন্যে যে পরিমান এনার্জি তাকে সংগ্রহ করতে হয় প্রকৃতি থেকে তা ধরে রাখার মতো কোনো দেহ তার কাছে থাকে না। এক্ষেত্রে কিছু সময় ভূত টি স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও তার প্রকৃত রুপ এ আসতেই পারে তবে খুব স্বল্প সময়েই জন্যে। অনেকটা আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে বা বিজ্ঞ্যান এর নানা পদ্ধতির দ্বারা আমরা বিদ্যুৎ কে দেখতে পাই। অর্থাৎ একটি ভূত কে আমাদের দৃষ্টিগোচর হতে গেলে তাকে প্রকৃতি থেকে বেশ শক্তি সঞ্চয় করতে হয়।
আজ আপাতত এই অবধিই থাক। এর পরে আস্তে আস্তে বাকি কারন গুলো বলার চেষ্টা করব, কেন সকলের কাছে সমান অভিজ্ঞতা হয় না, কারা ভালো কারা খারাপ তা কীভাবে বোঝা যায়, সম্মুখীন হলে প্রাথমিক ভাবে নিজেকে বাঁচানোর উপায় , মন্ত্র কী , মন্ত্র কিভাবে এদের জীবনে এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজ করে ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে। বানানগত ভুলত্রুটি মাফ করবেন এবং আপনাদের মতামত কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই জানাবেন।

লিখেছেনঃ- Arijit Seal 

Comments

Popular posts from this blog

লাভ স্পেল - Love Spell | সত্য ঘটনা অবলম্বনে-4