লাভ স্পেল - Love Spell | সত্য ঘটনা অবলম্বনে-4
আমার আগের ২-১ টা লেখা যারা পড়েছেন তাদের অনেকেই হয়ত জানেন যে এই ভূত, প্রেত, অশরীরী বা যে যাই বলে তাহাদের সম্বোধন করেন না কেন, এরা আমার নিত্যদিন এর সঙ্গী এবং এদের সাথে আমার জীবন সুখে দুঃখে বেশ অসাধারণ ই কাটে আর কি !! যে অভিজ্ঞতা টি আমি আজ এখানে লিখছি সেটি এই সদ্য মাস তিন কি চারেক আগের ঘটা একটি ঘটনা এবং এটি লেখার অন্যতম উদ্যেশ্য বর্তমান আমাদের মত তরুন ছেলে মেয়েদের আবেগের বশে করে ফেলা সামান্য কিছু ভুল কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তার একটা ধারনা দেওয়া। যাই হোক এবার শুরু করি, বাকিটা গল্প শেষে বলব।
ঘটনাটি ঘটে আমার ই এক পরিচিত বন্ধু কাম দিদির সাথে (গোপনীয়তা রক্ষার্থে আমি তার নাম,স্থান ইত্যাদি পরিবর্তন করে লিখছি)। দিশা দির সাথে আমার আলাপ তিন বছরের বেশি। কিছু ক্ষেত্রে আমার আর তার কিছু সামাজিক কর্তব্যের মিল থাকায় মাঝে মধ্যেই যোগাযোগ হয় ও আমরা একে অপরের পরামর্শ নিই, এবং আমার এই ভূতুড়ে রোমাঞ্চের একাধিক ঘটনার সে প্রত্যক্ষদর্শী এবং কিছু জায়গায়ে দিশা দি আমার সহকারিণীর ভূমিকা ও পালন করেছে। দুর্ভাগ্যবশত সে বুঝতে পারেনি যে এরকম কিছু তার নিজের জীবনেও ঘটবে এবং তা সম্পূর্ণই তার নিজের ভুলে। অনেকদিন ধরে দিশা দি আমাকে বলছে মাসখানেক ধরে তার কিছু অসুবিধা হচ্ছে, যেমন- হঠাৎ করে মাথা ধরা, আশেপাশের লোকজনকে সহ্য না হওয়া, স্বাস্থ্যের অবনতি ইত্যাদি ইত্যাদি। দিশা দি নিজেই একটি আধ্যাত্মিক আশ্রমের সাথে ওতপ্রোত ভাবে যুক্ত বলে আমি প্রথমে একদম ই ব্যাপার টা কে অন্যদিকের বলে ভেবেও দেখিনি। সে তার আশ্রমেও এই ব্যাপার নিয়ে মতামত নেয় এবং একাধিক ডাক্তার এর কাছেও পরামর্শ নেয় কিন্তু কোনটিতেই তেমন ফল হইনি বরং পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এরপর একদিন আমরা একসাথে বসলাম ব্যাপার টা নিয়ে যে অন্য কোনো কারন আছে কিনা দেখার জন্যে, কিন্তু গম্ভীর রূপে কিছুই উঠে আসলো না। কিন্তু পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকেই যাচ্ছিল। এর ই মধ্যে সে একদিন আমাদের আড্ডাতে ব্লাক ম্যাজিক, স্পেল ইত্যাদি কথার মধ্যে তার মনে পরে প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে এরকম কিছু একটা সেও করে তার এক দিদির পরামর্শে এবং দিশা দি সম্পূর্ণ ব্যাপারটা করেছিল খুব ই তাচ্ছিল্যের সাথে নিয়ে এই ভেবে যে সেসব বেকার। কি করেছিল বলি, দিশা দি ও তার দিদি দুজনেই তাদের জীবনের ভালোবাসার মানুষটিকে চাইত কিন্তু তাদের পাওয়ার সেরকম আসা নেই যেহেতু তারা তাদের জীবনে ব্যাস্ত নিজেদের মানুষদের সাথে। এবার ই ঘটে আসল ঘটনা, তার দিদি ইন্টারনেট থেকে জানে এক স্পেল এর ব্যবহার। সাধারনত এগুলিকে “লাভ স্পেল” বলা হয় যা ব্যবহার করা হয় যে কোনো মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার জন্যে। এবং অবিশ্বাস্য মনে হলেও এগুলো সম্পূর্ণ রূপে কাজ করেও কিছু বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া, তবে শুধুমাত্র তাদের দ্বারাই করা উচিত যারা এসবে অভিজ্ঞ্য। দিশা দির দিদি এসবের কিছুই জানে না এবং ইন্টারনেটে এসব দেখে এরকম করবে বলে মনস্থির করে এবং সেটি করে দিশা দির সাথেই। ঠিক হয় যে দুজনে দুজনের প্রিয় মানুষের জন্যে করবে। এবং কাউর কোনো পরামর্শ ছাড়াই(এই ব্যপার গুলো সবাইকে জানানোও যায় না যদিও) তারা সেই কাজ সম্পন্ন করে একে অপরের সাথে ভিডিও কল এ যুক্ত থাকার মাধ্যমে। ঘটনার সুত্রপাত ঘটে এখান থেকেই। এটি করার এক মাসের মধ্যে তার দিদির উদ্যেশ্য সম্পন্ন হয় কিছুটা কিন্তু দিশা দির পরিস্থিতি আরও ঘেঁটে যায়। দিশা দির সাথে তার সম্পর্ক একদম ই বন্ধ হয় এবং শুরু হয় দিশা দির বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা। ঘটনার কারন জানার পর আমার চক্ষু চড়কগাছে, এবং শুধু বললাম এতকিছু ঘটেছে আর তুমি আমাকে আজ বলছ !! আর তুমি আমার সাথে এতকিছু দেখার পরও করলে কীকরে এটা জেনে যে এগুলো কতটা ভয়ঙ্কর হয়। তার উত্তর সে এততা ভাবেনি তখন। আমি দেরী না করে পরদিন ই বললাম আমার বাড়িতে আসতে সাথে যা যা করেছে টা যেন সব বলে এবং অবশিষ্ট যা আছে সব নিয়ে আসতে(কিছু স্পেল করার পর তার পরিশিষ্ট কিছু রেখে দিতে হয় যতদিন না কাজ সম্পন্ন হচ্ছে)। পরদিন বিকেলে যথারীতি সে আমার বাড়িতে হাজির হয় এবং যা যা বাকি ছিল সেগুলোও নিয়ে আসে। সেখানে একটা অর্ধপোড়া কাগজ ছিল যাতে এক ডায়াগ্রাম আকা ছিল যা আমরা সাধারনত মাল্টি ডায়মেন্সনাল সংযোগ স্থাপনের জন্য ব্যবহার করি (এখানে যারা প্লানচেট ও অন্যান্য ব্লাক ম্যাজিক নিয়ে কাজ করেন তারা জানবেন), কটি ছোটো ছোটো চিরকুট ছিল যাতে স্পেল এর মন্ত্র লেখা ছিল এবং অন্যান্য কিছু জিনিস। সব দেখে যা বুঝলাম যে একটা চুক্তি/ডিল সম্পন্ন করা হয়েছে। যাই হোক আমার ঘর অন্ধকার করে দিশা দি কে ৪টে মোমবাতির মধ্যে বসিয়ে আমার কাজ শুরু করলাম। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে দিশা দির অস্বাভাবিক আচরণ শুরু হোলো। প্রথনেই গলার সুর বদলে একটি ছেলের আওয়াজ বেরতে শুরু করে যেখানে একটাই কথা আওরাতে থাকে যে “তুই কিচ্ছু করতে পারবি না” আর তার সাথে চলে অট্টহাসি। এরকম জায়গায়ে আমাদের প্রথম কাজ থাকে অন্য আত্মার নাম বের করা যা তারা বলতে চায় না। দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ মিনিটের যুদ্ধের পর তার নাম জানা যায় এবং সেই আত্মা টি রোমানিয়া র এক ব্যাক্তির(দিশা দি র দিদি রোম এ থাকে এবং আত্মার নাম বলা যায় না তাই নাম জানাতে পারলাম না।), এছাড়াও জানলাম যে তার সাথে চুক্তি করা হয়েছে(যা সাধারনত স্পেল এর মাধ্যমে করা হয়) তাই যতক্ষণ না সেই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে সে ছাড়বে না। এতো মহা জালা!! এর ই মধ্যে সেই আত্মাটিও দিশা দির শরীরের প্রেমে পড়ে গেছে এবং এই শরীর কিছুতেই সে ছাড়তে রাজী নয়। এরকম অবস্থায়ে টানা তিন দিন পর অবস্থা আয়ত্তে আসে এবং সেই মহান রোমানিয়া কে তারানো সম্ভব হয়। কিন্তু এই তিন দিন আমার আর দিশা দি র ভয়াবহ ভাবে কাটে। আমার কাছে ব্যাপার টা সাভাবিক হলেও তার কাছে দুঃস্বপ্ন ছিল। সাধারনত এরকম অবস্থায়ে আমরা যারা রেস্কিউ তে থাকি আমাদের উপর তেনাদের সবথেকে বড় আক্রোশ থাকে, হাজার হোক তাদের ঘর ভাঙছি বলে কথা! যাই হোক ৩দিন পর সেই আগের করা স্পেল এর অবশিষ্ট গুলো সব নষ্ট করা হলো এবং তার পর দিশা দি আসতে আসতে সাভাবিক হতে শুরু করে। সপ্তাহ খানেকের পর থেকে তার স্বাস্থ্যও ঠিক হতে থাকে এবং আখন সে সম্পূর্ণ আগের মতো। বর্তমানে সে ওই পরিস্থিতির কিছু কথা বলে এবং আমরা সেগুলো নিয়ে মজাও করি, যেমন, দিশা দি তখন বিশেষ করে শুধু মেয়েদের পছন্দ করত এবং ছেলেদের পছন্দই করতে পারত না, রাতে ঘুমাতে পারত না, ঘরে কোনো পূজো দিতে দিতনা ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন সবকিছু আগের মতো সুস্থ ও স্বাভাবিক।
এবার বলি, বর্তমানে ইন্টারনেট এ অসংখ্য এরকম সাইট আছে যেখানে এরকম নানা কিছু আছে যেমন- প্রিয়জনকে বশে করা, ধন মুল্যবৃদ্ধির টোটকা, কাউর ক্ষতি করার ইত্যাদি ইত্যাদি। যার বেশিরভাগ সাইটগুলোই বিদেশি। এগুলো থেকে দূরে থাকুন। YouTube এ অনেকরকম এসব Dark Magic এর ভিডিও ও পাবেন যেখানে এসব কিকরে করতে হয় সব দেখানো আছে। আপনার এসবে আগ্রহ থাকলে আপনি এসব নিয়ে পড়াশোনা করতেই পারেন কিন্তু এসব গাইড ছাড়া হাতেকলমে করতে যাওয়া মানে নিজের বিপদ নিজে ডাকা। এখন হাজারো অ্যাপস আছে ফোন এর যেখানে এসব ব্লাক ম্যাজিক এর বহু পন্থা আছে। এইসব জায়গায়ে যে ভুল ভাল তথ্য দেওয়া আছে তা নয় বরং অসুবিধার কারন হচ্ছে অনেক কিছুই ঠিক দেওয়া আছে যা ফলপ্রদায়ক কিন্তু only by expert’s hand । কোনো গাইড ছাড়া একদম করতে যাবেন না।
আমরা আমাদের দুনিয়াটাকে তততাই চিনি যতটা আমাদের দৃশ্যবান। এর বাইরেও একাধিক জগৎ আছে। আর এই আমরা মানুষরাই তার অস্তিত্ব বুঝতে সক্ষম যার জন্যেই আমরা মানুষরাই এসবের পথ খুজে বের করতে পারি। ফলে নতুন পথে চলার আগে পথপ্রদর্শক থাকা অত্যন্ত জরুরী নয়ত যখন তখন খাঁদে পা হরকে পড়ে যেতে পারেন যার ফল মৃত্যুর থেকেও ভয়ঙ্কর।।
আজকে এই পর্যন্তই, সাহিত্য সম্বন্ধে জ্ঞ্যান আমার খুব ই নগণ্য ফলে বানানগত, ব্যকরনগত ও অন্যান্য কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে অবশ্যই জানাবেন যাতে শুধরে নিতে পারি। ধন্যবাদ।।

Comments
Post a Comment