"ঘটনা", সত্য ঘটনা অবলম্বনে -3
আজকে একটি ছোট্ট ঘটনা সকলের সাথে শেয়ার করছি যা আমার নিত্যনৈমিত্তিক জীবনে প্রায়শই ই ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা গুলির মধ্যে একটী। পেট চালানোর দায়ে পেশায় আমি এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হলেও ভুত,প্রেত,পিশাচ বা অন্যান্য মহাজাগতিক শক্তি(যে যেটা মানেন!) দের সাথে সময় কাটানো টা অনেকটা আমার নেশার মধ্যেই পরে আর কি। এইরকম উদঘট নেশা বা ভাললাগা টাকে অনেকেই বেশ রোমাঞ্চকর ভাবেন, যেটা ভাবা খুব একটা ভুল ও না। এই প্যারানরমাল ও প্যারাসাইকলজিকাল দুনিয়া টা রোমাঞ্চকর ই বটে কিন্তু একটু বেশিই ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর। যারা প্যারানরমাল অ্যাকটিভিটির সাথে সরাসরি জড়িত, তাদের প্রতিদিনের সাধারন জীবনযাপনে যে অন্য শক্তির খারাপ ও ভালো প্রভাব থাকেই বিভিন্নরূপে তা অস্বীকার করার কিছুই নেই। এই ঘটনাটি প্রায় সদ্যই ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা যেখানে আমার কর্মফল ভোগ করতে হয় আমার ই অফিসের অফিস বয় কে। এবার আসি মুল ঘটনায়...
সেদিন আমার মাল ডেলিভারি করার ছেলেটি অফিসে আসেনি এবং আমাকে অর্ডার টা আজকেই একটি কলেজে ডেলিভারি দিতে হবে। অগত্যা ঠিক করলাম পলাশ(আমাদের অফিস বয়) কে সাথে নিয়ে আমিই মাল গুলো ডেলিভারি করে দেবো। যথারীতি বিকেল ৪টে নাগাদ আমার ছোট্ট M-80 গাড়ি টা নিয়ে বেরোলাম। পলাশ আমার গাড়ির পিছনের সিটে মালগুলো ধরে বসে আসে। সবকিছু ঠিকঠাক ই চলছিল যতক্ষণ না কলেজের গেট টা পেরলাম। গেট থেকে ভিতরে ঢুকছি, রাস্তা মাটির এবং সম্পূর্ণ শুকনো, ছুটি হয়েছে বলে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী সকলে বাড়ি যাওয়ার তাড়া, ফলে আমার গাড়ির গতি ওই ১০-১২ কিমি/ঘণ্টা। এমনি সময়েই হুট করে আমি গাড়ি নিয়ে উলটে পড়লাম। কে যেন আমার হ্যন্ডেল টা চেপে ধরে রাখল। পলাশ আমার গায়ের উপর দিয়ে গড়িয়ে সামনে আরও দু-হাত দূরে গিয়ে পড়ল। কিছু মুহূর্তের জন্যে স্বাভাবিকভাবেই আমি হতবাক হয়ে ছিলাম। পরিস্থিতি সজ্ঞ্যানে আসার পর দেখলাম চারিদিকে অদ্ভুতভাবে সবাই দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে, আমি সাইড করে পরে আর গারিটা আমার পায়ের উপরে পরে আছে, পলাশ কিছুটা দূরে কেমন একটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বসে আসে, গেট এর গার্ডেরা ছুটে আসছে। গার্ড এবং অন্যদের সাহায্যে উঠলাম, বুঝতে পারলাম পায়ে চোট লেগেছে তবে খুব গুরুতর না। অদ্ভুতভাবে পলাশ এর কোনো রক্তক্ষরণ হয়নি এবং মালগুলোর কোনো ক্ষতিই হয়নি, গাড়িটার একটু ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু পলাশ সম্পূর্ণ রূপে কী ঘটলো তা নিয়ে কিছুই ঠিক করতে পারছে না। গার্ড দের প্রশ্ন একটাই যে হোলো টা কিকরে। ওরা প্রত্যক্ষদর্শী হয়েও কারন খুঁজে পাচ্ছে না। পলাশ বারবার শুধু একটাই কথা বলছে দাদা আমাকে যেন পিছন থেকে ধরে তুলে ফেলে দিল। পুরো ব্যাপার টা বুঝতে আর সময় লাগলো না। ওখানে আর কথা না বাড়িয়ে পলাশ কে শুধু বললাম বাড়ি গিয়ে সব হবে এখন তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে বাড়ি চল। কাজ মিটিয়ে কোনোমতে বাড়ি ফিরে পলাশকে বললাম তাড়াতাড়ি স্নান সেরে আমার কাছে আয়। কথামতো ও স্নান করে এল আমার কাছে। ওকে আমার ঘরে নিয়ে বসলাম এবং শেষে একটা কাঁচের শিশি করে জল দিয়ে ওকে খেয়ে নিতে বললাম আর বললাম যে কী হয়েছে এটা কাউকে না বলতে কারন কেউ তোর কথা বিশ্বাস করবে না। যেহেতু পলাশ ছোটো ছেলে এবং সবে উচ্চমাধ্যমিক দিয়েছে, ও পরদিন এর মধ্যেই তার বাড়িতে আর পাড়াতে ওর খেলার সঙ্গীদের এটা বলে বেড়িয়েছে এবং সকলেই নাকি ওর উপর হাসাহাসি করেছে, এমনকি ও যাদের বলেছে তারাই কেউ কেউ আমার কাছে এসে হাসাহাসি করেছে ও এরকম বলেছে বলে।
এখানে বলে রাখি, পলাশ এর বাড়ি আমার বাড়ির কাছেই,ওর উচ্চতা ৫’৮” ইঞ্ছির মতো, বেশ স্বাস্থ্যবান, ওজন ৭৫-৮০ কেজির মধ্যে হবে কম করেও। ফলে চলমান গাড়িতে বসে মালপত্র সমেত আমার উপর দিয়ে উল্টে অতটা দূরে ফেলা সাধারন মানুষের কর্ম নয়, আর পারলেও ওকে কেনই বা কেউ করতে যাবে ওরকম। একটা M-80 গাড়ির যা ভড় তার সাথে ওই অবস্থায় গাড়িটির চলমান গতির অঙ্ক কষলে যে পরিমান নিঃসৃত শক্তির ফলাফল বেরোবে তার দাঁরাও এরকম হউয়া সম্ভব না। আর রাস্তায় কোনোরকম ইট, পাটকেল ইত্যাদিও ছিল না, থাকলেও পলাশকে অতো দূরে ছিটকে পড়তে হতো না। সবকিছুর পরে আমি যা জানতে পারি, ঘটনাটি ঘটার দিন কয়েক আগেই আমি একটি ভৌতিক ঘটনার সমাধান করি এবং সেখানকার ই অশুভ শক্তি তার চলে যাওয়ার জানান আমাকে এই ভাবে দিয়ে গেল সাথে তার কিছু খুচরো রাগ ও মিটিয়ে নিলো আরকি!!
এরকম অনেকরকম ছোটো খাটো ঘটনার সম্মুখীন আমাকে প্রায়শয় ই হতে হয় আমার ভূতুড়ে নেশার কারনে। কখনও খুব ভালো আবার কখনও খারাপ। পড়ে ভালো লাগলে এরকম ঘটনা বা গল্প একটা একটা করে আপনাদের শোনাব সময় পেলেই।।

Comments
Post a Comment