ধোঁয়াশা - সত্য ঘটনা অবলম্বনে 5
এর আগের একটি লেখাতে আমার সাথে প্রায়শই ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অদ্ভুত/ভুতুড়ে ঘটনাগুলির মধ্যে একটি ছোট্ট ঘটনা সবার সাথে শেয়ার করেছিলাম। এই লেখাটিতে সেরকম ই আর একটি আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা সকলের সাথে শেয়ার করছি।
ঘটনাটি ঘটে এই বছরের ই জানুয়ারি মাসে। একটি বিশেষ ইভেন্ট এ আমাকে একটি নির্দিষ্ট দিনে যেতে হবে উদয়নারায়নপুর। ইভেন্ট শুরুর সময় ছিল সকাল ৮ টা, আমার বাড়ি থেকে গন্তব্য স্থান এর দূরত্ব ওই ৬৫ থেকে ৭০ কিমি র মধ্যে এবং আমি যাবো আমার ছোট্ট M-৮০ টা চালিয়ে, ফলে আমাকে একটু আগেই বেরোতে হবে। যথারীতি ভোর পৌনে ৪টে নাগাদ বেরলাম। যেহেতু আমি আমার ওই গাড়ি নিয়েই এদিক ওদিক যেখানে যখন খুশি ঘুড়েবেরাই ফলে আমার গাড়ি টাতে সামান্য কাস্টমাইজ করে তাতেই রাতে চলার ফগ লাইট, মোবাইল হোল্ডার ও চারজার, ইত্যাদি কিছু ব্যাবস্তা করা আছে বিভিন্ন প্রয়োজনের জন্যে, ফলে ঠাণ্ডার সময়ে কুয়াশাচ্ছন্ন অন্ধকারেও আমার অসুবিধে হয় না। নিজে রোমাঞ্চ প্রেমিক হউয়ার ঠাণ্ডা্য় ভোর রাতে ফাকা গা ছমছমে অবস্থায়ে গাড়ি চালাতে বেশ ভালোই লাগছিল, কারন চন্দননগর থেকে সিঙ্গুর হয়ে তারকেশ্বর রোড ধরে চাঁপাডাঙা যাওয়ার দিকে রাস্তা টায়ে বেশিরভাগ টা তেই কোনো রোড লাইট নেই ফলে ওই সময়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার এবং শীতকাল থাকার ফলে জনশূন্য রাস্তা। আমি যেন অন্ধকারে বুক চিঁরে এগিয়ে যাচ্ছি আর বেশ উপভোগ্য। একটি ভিতর রাস্তা দিয়ে পাশ করছিলাম, সেই যায়গায়ে রোড লাইট যথেষ্ট ভালো ও আছে, আর একটু গেলে আমি দিল্লি রোড এ উঠে সেটাকে ক্রশ করে অন্য রাস্তা ধরব, এরকম ই যাওয়ার পথে হুট করে দেখলাম আমার চারিদিকে সাদা কুয়াশায়ে ছেয়ে গেল। কিন্তু ঠিক কুয়াশা ও না এ তো সাদা ধোয়া। যেন ধোয়াটা আমাকে গ্রাস করেছে। আমার গাড়ির নিজস্ব হেড লাইট ও সাথে ২টো ফগ লাইট জ্বলছে কিন্তু ধোঁয়ার ঘনত্ব এতই বেশি যে এক হাত দুরের কিছু দেখা যাচ্ছে না। গাড়ি একদম আস্তে করে দিলাম কারন দেখতে পাচ্ছি না কিছু, সামনে কিছু চলে এলে দুর্ঘটনা অনিবার্য কারন সামনেই দিল্লি রোড। ধোঁয়ার উৎস বোঝার চেষ্টা করছিলাম, দুইপাশে বিস্তর চাষের জমি ফলে কেউ উনুন জ্বালাবে তা তো নয়, আবার উনুনের ধোঁয়ার একটা আলাদা গন্ধ হয় সেটাও পাচ্ছি না। কুয়াসা ও এরকম হয়না।খুব আস্তে আস্তে এগোচ্ছি এমন সময় হুট করে দেখলাম পোস্ট এর গায়ে হেলান দিয়ে কে একজন দাড়িয়ে আছে মাথা নিচু করে এবং শুধু কোমর অবধি দেখতে পেলাম। কিছুটা বুঝে আর ঘুরেও তাকাইনি আর জানার কোনো চেষ্টাও করিনি ওটা কে বা কী, একটু ভয় ও পেয়েছিলাম, সোজা তাকিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি, এরমধ্যেই হঠাৎ সব ধোয়া একদম পরিস্কার হয়ে গেলো, দেখছি গাড়ি এবার দিল্লি রোড এ উঠবে। ঠিক ওই মুহূর্তেই যদি ওই ধোয়া পরিষ্কার না হোতো আমি বুঝতেও পারতাম না আমি বড় রাস্তায়ে উঠবো এবং ঘটতেই পারতো দুর্ঘটনা। যাই হোক সজাগ হয়ে গেলাম। বুঝতে পারলাম যে কিছু সাবধান হতে হবে। এরপর আর কিছু হয়নি, ইভেন্ট এ পৌঁছে সারাদিন সুন্দর কাটালাম। ইভেন্ট টি ছিল গ্রাম এর একটি বড় মাঠ এর মধ্যে এবং মাঠের এক পাসে একটি পুরনো ভাঙা মন্দির যা নাকি ঐতিহাসিক। এটি একটি বাৎসরিক ইভেন্ট যেখানে সারা ভারতবর্ষের বিভিন্নরকম ভ্রমণকারীরা একত্রিত হন। ইভেন্ট টি যারা আয়োজন করেন তাদের সাথে আমার সম্পর্ক একদম দাদা ভাই এর মতোই ফলে রাতে গল্প আড্ডার জন্যে আমাকে তাদের সাথে থাকতে হোতো। সকলেই যেহেতু ভ্রমণকারী ফলে সেই রাত এর থাকাটা আমরা ওই মাঠেই টেন্ট লাগিয়ে ছিলাম।
এত অবধি সব ই ঠিকঠাক ছিল। আমাকে পরেরদিন ই যতটা সম্ভব সকাল সকাল ফিরতে হতো। ফলে ঠিক করেছিলাম যে ওই ৪ টের মধ্যেই বেড়িয়ে পড়ব অখান থেকে। যথারীতি আমি ৩টে নাগাদ উঠে পরি এবং ৩টে ৩০ নাগাদ ফ্রেশ হয়ে রেডি হবো বলে বাইরে বেড়িয়ে মাঠের অন্য কোন এর দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখলাম আমার বাম দিকে ওই ফুট ৩০ দূরে একটা কিছু। দাড়িয়ে গেলাম। দেখলাম একটা কালো ছায়া বা সেই বোরখা পড়ার মতো কেউ, লম্বা, পা নেই, মাটি থেকে কাপড়টা ১ ফুট এর মতো উঁচুতে ভাসছে, মুখ নেই। যেন সে ও আমাকে পর্যবেক্ষণ করছে। একটু সাহস যোগার করে কিছু মুহূর্ত দাঁড়ালাম। এরপর বুঝলাম এ তো ভালো শক্তি না বরং খুব ই খারাপ এবং আস্তে আস্তে এগোতে শুরু করল। আমিও আয় তো দেখি ভেবে এগচ্ছিলাম কিন্তু মনে হল সেটা করা ঠিক হবে না। কারন এই যায়গায়ে আমি নতুন, আমি জানি না যে এ একাই আছে না অন্য আরও আছে এর সাথে, আর বাড়ি ও কাছে না, এবং উনিশ বিশ হলে কিছু করার থাকবে না। দৌড়ে ফিরে টেন্ট এ ঢুকলাম। একটু সময় নিয়ে টেন্ট থেকেই বাইরে তাকিয়ে আছি ওই দিকে। কিছু দেখলাম না তবে খুব রহস্যময় এক দৃশ্য দেখছিলাম। মাঠ তখন গভীর কুয়াশায় আচ্ছন্ন, দুরের রাস্তার ধার এর পোস্ট এর লাইট, ঠিক যেন কোনো সিনেমার রাতের দৃশ্য।সে এক অদ্ভুত নেশাদায়ক দৃশ্য, বেশ ভালো লাগছিল দেখতে। কিছুক্ষন পর দেখলাম মাঠ র মধ্যে দিয়ে যে শেয়ালগুলো দৌড়াদৌড়ি করছিল তারা কেমন করে সবাই মিলে মাঠের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট দিকে তাকিয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে। সব ভালো করে বোঝার চেষ্টা করছিলাম। কিছুক্ষন পর শেয়াল গুলো যেন প্রানপনে পালালো। কিন্তু কিছুই নেই। আমার ও আমার বাদেও আরও বাকীদের গাড়ি টেন্ট এর পাশেই রাখা ছিল। আমি একটু বেড়িয়ে আমার গাড়ির উপর বসে আশপাশ টা দেখছিলাম, বেশ ভালো লাগছিলো। এমন অবস্থায়ে আবার দেখি সেই ছায়া, মাঠের মাঝ বরাবর, আকারে যেন আরও বড় লাগছে আর খুব দ্রুত ভাবে আমার দিকে ধেয়ে আসছে। আমি চট করে টেন্ট এর ভিতর ধুকে একদম তৈরি হয়ে আছি, যে এখানে এলেই আমি আমার আক্রমন করব। এমন অবস্থায়ে আমার গাড়িতে এক জোর শব্দ হলো। যেন কেউ একটা গোটা ইট আমার গাড়িতে ছুড়ে মারল। দৌড়ে বেরলাম, দেখি কেউ কোথাও নেই, ভালো করে দেখলাম গাড়িতে কোনো ক্ষয়ক্ষতিও নেই। তখন সময় ৪টে ৪৫ আর তখন ও ভোরের আলো ফোটেনি। তখন থেকেই আশেপাশে আর শক্তির উপস্থিতি বুঝতে পারছিলাম না যা এতক্ষন মনে হচ্ছিল। ফলে সারা মাঠ জুড়ে হাঁটতে লাগলাম এবং কারন খুঁজতে শুরু করলাম।কিছুই পেলাম না, এদিকে সকালের আলো ফুটতে শুরু করলো।
আমি তৈরি হয়ে নিলাম এবার বাড়ির দিকে রউনা দেবো বলে। সবাইকে ডেকে বিদায় জানিয়ে বাড়ির উদ্যেশ্যে বেরলাম সাড়ে ৫টা নাগাদ। বেড়িয়ে কিছুটা চলে বুঝলাম যে গাড়িটার পিছনের চাকায় হাউয়া নেই। চালানই যাচ্ছে না। এ তো মহা বিপদ। এখন এই সকালে কোথায়ে ই বা দোকান খোলা পাই!! এইভাবে আস্তে আস্তে এগিয়ে একটা দোকান পেলাম, অনেক্ষন অপেক্ষা করে স্থানীয় মানুষের সহায়তাই তার বাড়ি থেকে তাকে ডেকে তুলে হাওয়া দেওয়া হোল তবে কোনো লিক খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর ই শুরু হলো গাড়ির হ্যান্ডেল কাঁপা। সে সোজা রাখা দুষ্কর, এমন আকাধিকবার থেকে বাঁচলাম যে আমার পাশ দিয়ে বড় বড় গাড়ি যাচ্ছে আর গাড়ি আমার নিয়ন্ত্রনের বাইরে। এরকম ভাবে চালানো আর সুইসাইড করা সমান। গাড়ি হাঁটিয়ে হাঁটিয়ে এক দোকানে নিয়ে গেলাম, দেখা গেলো গাড়ির সামনের চাকার সাথে গাড়ির সংযোগকারী যে নাট গুলি থাকে টা ঢিলে এবং যে কোনো সময়ে তা খুলে গাড়ি থেকে আলাদা হয়ে যেতে পারতো। এখানে বলে রাখি আমি নিজে খুব সামান্ন্য গাড়ির কাজ জানি যা আপদকালিন অবস্থায়ে কাজে লাগতে পারে, এবং দূরে কোথাও যাওয়ার আগে আমার বাড়ির পাশেই গাড়ির গ্যারেজ যেখানে আমি তার আগের দিন সমস্ত চেক আপ করিয়ে নিই, এখেত্রেও সেটির ত্রুটি হয়নি। ফলে এরকম হউয়ার কোনো কারন ই নেই। যাই হোক সব ঠিক করা হোলো এবং সময় তখন সকাল ৯টা এবং আমি ততক্ষণ এ মাত্র ১২ থেকে ১৫ কিমি অতিক্রম করেছি এই করতে করতে। ফলে সময়ে আর বাড়ি ফেরা সম্ভব না। এরপর সম্পূর্ণ ঠিকঠাক ভাবে বাড়ি পৌঁছলাম বেলা ১২ টা নাগাদ। আর কোনো অসুবিধে হয়নি। বাড়ি ফিরে সাথে সাথেই গাড়ি আবার গ্যারেজ এ দিই, কোনোরকম অসুবিধে ধরা পড়েনি স্বাভাবিকভাবেই।
এই ঘটনায় আমার সাথে আমার ই এক বন্ধু ছিল। আমরা এক সাথেই গেছিলাম। তার কাছেও ওরকম যাওয়ার সময়ে ওরকম চারিদিক ধুয়ো তে ভরে যাওয়া খুব অস্বাভাবিক, তবে ওই আমি যে কিছু একটা দেখেছিলাম সেটা তাকে বলিনি কারন সে ভয় পেয়ে যেতে পারতো তাতে আরও হিতে বিপরিত হতো। তবে ফেরার সময়ের গাড়ির সাথে এই সমস্ত ঘটনা যেটার সে প্রত্যক্ষদর্শী, তার কোনো সংজ্ঞাও তার কাছে নেই। তবে তাকে আর আমি বিস্তারিত কিছু বলি নি কারন সেগুলো তার না জানাই ভালো। এই ঘটনার কিছুদিন আগেই আমি একটি কেস এর সাথে যুক্ত ছিলাম এবং প্রায় সমাধান করে উঠেছিলাম যেই ঘটনাটি এই গ্রুপ এ লিখেছি আমি। তার লিঙ্ক নিচে দিয়ে দিচ্ছি। হতে পারে সেই ব্যাপারটার প্রভাব এটা, কারন সব মিটে যাওয়ার পরেও সেই শক্তি তার যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে যায়নি তখন যেটা সে এগুলোর মধ্যে দিয়ে দিলো। ওই ঘটনার সময়ে সেই শক্তি আমাকে একাধিকবার আমার প্রাণনাশের হুমকি ও দিয়েছিল যেটারই চেষ্টা করা হয়েছিলো কিন্তু হয়নি। আবার হতেও পারে যে এই ঘটনার সাথে সেই ঘটনার কোনো মিল নেই। যাই হোক সেই বিশ্লেষণ এ আর যাওয়ার চেষ্টাও করিনি প্রয়োজন মনে হয়নি বলে।
আগের ঘটনাটির লিঙ্কঃ -
https://aattyo.blogspot.com/2019/05/love-spell-4.html
https://aattyo.blogspot.com/2019/05/love-spell-4.html

Comments
Post a Comment